লক্ষ্মীপুরে নষ্ট হচ্ছে ৫০ কোটি টাকার ৩ হাজারেরও বেশী যানবাহন

 

নিউজ ডেস্ক:
অবৈধ আমদানীকৃত যানবাহনসহ বিভিন্ন অপরাধে জব্দকৃত আলামত সংরক্ষনের কোন উদ্যোগ নেই লক্ষ্মীপুরে। জেলার আদালত চত্বর, পুলিশ লাইন্স ও ৬টি থানায় ৫০ কোটি টাকা মুল্যের ৩ হাজারেরও বেশী যানবাহন বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে। বছরের পর বছর বৃষ্টিতে ভিজে রোধে জ¦লে এসব যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সমন্বয়ে নিলাম দেওয়া ও আলামত সংরক্ষনাগারের অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ লাইন্স এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, চার পাশে আবর্জনার স্তুপ, আগাছায় ভরে গেছে সকল যন্ত্র দানব, দুই চাকার মোটর সাইকেল থেকে শুরু করে প্রাইভেটকার, সিএনজি চালিত অটো রিক্সাসহ সব যানবাহনেই আছে এখানে। এমনিভাবে জেলার আদালত চত্বরের সরকারি মাল খানায় ও ৬টি থানায় সর্বমোট ৩ হাজারেরও বেশী যানবাহন রয়েছে। একেকটি গাড়ী দেড় লাখ থেকে পৌনে দুই লাখ টাকা করে ধরলে যা নতুন করে আমদানী করতে ৫০ কোটি টাকার বেশী লাগবে। যদিও বিআরটিএ লক্ষ্মীপুর সার্কেল এর সহকারি পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নতুন আদানী করতে ৩০ কোটি ও অকেজো হিসেবে এসব যানবাহনের বর্তমান মুল্য রয়েছে ৯ কোটি টাকা।
সাধারণ মানুষ বলছেন, স্থান সংকট ও সংরক্ষাগারের অভাবে এসব বাহন এখন খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে। অকেজো হওয়ার পাশাপাশি অযত্ব অবহেলায় অনেক গাড়ীর যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। একই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মামলার আলামত।
বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষজন বলছেন, এসব যানবাহনের আইনী জটিলতা নিরসন করে ব্যবহার উপযোগী থাকতেই দ্রুত নিলামের ব্যবস্থা করা হলে বছরের পর বছর এসব বাহন নষ্ট হবেনা। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদও রক্ষা পাবে।
অনেকেই নিলাম নেওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও তা না হওয়ায় হতাশার কথা জানান তারা।
লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন বলেন, আলামতের মামলাগুলো আলাদা করা এবং পুলিশ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে দ্রুত নিলাম দিলে নিষ্পত্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অধিকাংশ মামলায় পুলিশ কর্মকর্তারা বাদী হওয়ায় তাদের বদলী জনিত কারণে নিষ্পত্তি করা যায়না। আলামতগুলো সংরক্ষনে মাল খানা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিজ্ঞ এ আইনজীবী।
লক্ষ্মীপুরেরর পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন বলেন, মামলার আলামত, পরিত্যক্ত ও কাগজপত্রহীন এ তিন ধরণের প্রায় ৩ হাজার যানবাহন পুলিশের হেফাজতে আছে। বর্তমানে এসব বাহন রাখার মতো কোন গোডাউন, ওয়ার হাউজ বা ডাম্পিং স্টেশন লক্ষ্মীপুরে নেই। দ্রুত নিলাম দেওয়ার পরামর্শ দিলেন জেলার পুলিশ প্রধান।