লক্ষ্মীপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-৭

জগন্নাথ দাস :
লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ছাত্রলীগ নেতাকে দেখতে যাওয়ার পথে ট্রাক সিএনজি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬জনসহ ৭ জন নিহত হয়েছে। (আজ) বুধবার ভোর রাতে ঢাকা-রায়পুর মহা সড়কের রতনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও দ্রুতগতিতে গাড়ী চালানোয় এ দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন, চন্দ্রগঞ্জ বসুদুহিতা এলাকার স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা (চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রলীগ সদস্য) নাদিম মাহমুদ অন্তরের মা নাসিমা ও তার বর্তমান স্বামী বেগমগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী শাহ আলম, অন্তরের নানী শামছুন্নাহার (৬৫), খালা রোকেয়া, সৎ ভাই অমিদ হোসেন ইমন (২) ও খালাতো ভাই রুবেল (২১), এবং সিএনজি চালক নুর হোসেন সোহাগ। চালক সোহাগ সদর উপজেলার বাঙ্গাখা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ভোর রাতে লক্ষ্মীপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি মালবাহী ট্রাক ( ঢাকা মেট্রো-ট ১৪-০৬৭৭৭) ঘন কুয়াশার ভেতরে দ্রুত গতিতে চট্রগ্রাম যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি চালিত অটোরিক্স্রার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি ধুমড়ে মুচড়ে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ওই সিএনজিতে থাকা সকল যাত্রী নিহত হন। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী উদ্ধার অভিযান চালায়।
এদিকে ঘন কুয়াশা ও দ্রুতগতিতে গাড়ী চালানোয় এ দূর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশের চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও সিএনজি চালিত অটোরিক্সাটি উদ্ধার করে জদ্ধ করা হয়। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন।
নিহতের স্বজন সাহাবুদ্দিন ও আলম জানান, মধ্যরাতে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা অন্তরকে পিটিয়ে আহত করে দূর্বৃত্তরা। তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অন্তরের স্বজনরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার পথে এ দূর্ঘটনার শিকার হন অন্তরের পরিবার। তারা নিরাপদ সড়ক ও ঘটনার বিচার দাবী করেন।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল করিম নিশানও।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও বিআরটিএ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শোক সন্ত্রপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দূর্ঘটনা কবলিত গাড়ী গুলোর ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আলী।