মে ৮, ২০২১

লক্ষ্মীপুর নিউজ

দিন বদলের প্রত্যয়ে

ঘর দিচ্ছে সরকার তা নিয়েও বাণিজ্য!

নিউজ ডেস্ক :
লক্ষ্মীপুরে গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়ার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জেলাব্যাপী প্রতিটি ইউনিয়নে ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ঘর করে দেওয়ার কথা বলে এটাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্রের সদস্যরা। এদিকে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনুকূলে অর্থ বরাদ্ধ দেয় সরকার। যা ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা থাকলেও বর্তমানে ওই প্রকল্পের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এনিয়ে অসন্তোস প্রকাশ করেছে জেলা আওয়ামীলীগ। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা বলছেন তালিকায় অসঙ্গতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের (পি আই ও) বদলীজনিত কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে “যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ” উপ খাতের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনুকূলে অর্থ বরাদ্ধ দেয় সরকার।
যাদের ০১-১০ শতাংশ জমি আছে, কিন্তু ঘর নেই বা ঘর থাকলেও তা বসবাসের অনুপযোগী তারাই এ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকারভোগী হবেন। এমন তালিকাভুক্ত লক্ষ্মীপুর সদরে ৫৬৫, রামগঞ্জ ৪৭৬, রায়পুর ১৯৮, রামগতিতে ৩০২ ও কমলনগর উপজেলায় ১৬২সহ মোট জেলার ৫টি উপজেলায় ১৬০৩ জন হতদরিদ্র গৃহহীনদের ঘর নির্বাহ ব্যয়ের জন্য ১৬ কোটি ৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ আসে। গেলো মে মাসের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো স্বারক অনুযায়ী জানা যায়, মন্ত্রাণলয়ের নির্দেশনা ছিল উপজেলা আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন টাস্কফোর্স সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই অর্থের আয়ন-ব্যায়ন কর্মকর্তা ও তদারকিতে থাকবেন। একই সঙ্গে ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে ওই প্রকল্পের কাজের দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই।
এতে করে অসন্তোস প্রকাশ করেছে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন। তিন বলেন প্রকল্পের বিলম্ব ও স্থবিরতার কারণে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে গৃহহীনরা। দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার দাবী জানান আওয়ামীলীগের এ নেতা।
এদিকে সরকারিভাবে ঘর নির্মাণের কথা বলে অধিকাংশ ইউনিয়নে দালাল চক্রের সদস্যরা হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন উপকারভোগী ও এলাকাবাসী।
সদর উপজেলার টুমচর ও কালিরচর, শাকচর ও চররমনী মোহনের অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই অবস্থা সব কয়টি উপজেলায়। উপকারভোগীদের দাবী হয় আমাদের টাকা ফেরৎ দেওয়া হোক না হয় ঘর করে দেওয়া হোক। অন্যদিকে সরকারি এসব বরাদ্ধকৃত অর্থের জবাবদিহিতা থাকা জরুরী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তানাহলে আগামী সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলেও মনে করছেন তারা। অপরদিকে ভুক্তভোগীরা অনেকেই এখন হতাশায় রয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন ঘর না থাকাই মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা। বিয়ে উপযুক্ত কন্যা সন্তান নিয়ে অনেকে বিপাকে রয়েছেন বলে জানান।
এমন পরস্থিতিতে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, তালিকায় অসঙ্গতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের (পি আই ও) বদলীজনিত কারণে ঘর নির্মাণ কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। খুব দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যাক্ত তিনি আরো বলেন, সরকারি টাকা গচ্ছিত রয়েছে। টাকা আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই। কোথাও উপকারভোগীদের কাছ খেকে কোন টাকা নেওয়া হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।