মে ৮, ২০২১

লক্ষ্মীপুর নিউজ

দিন বদলের প্রত্যয়ে

নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আশা ছাড়েনি আউয়াল তৎপরতায় আওয়ামী লীগ পর্যবেক্ষনে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। মহাজোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশনের মহা সচিব বর্তমান এমপি লায়ন এম আউয়ালকে সম্প্রতি দল থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়। এরপরও আশা ছাড়েননি তিনি। আওয়ামীলীগের তৎপরতা বেড়েছে বহুগুন। চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে নেতাকর্মীদের মাঝে । দলীয় মনোনয়নের জন্য ইতিমধ্যে একাধিক প্রার্থী দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও বিএনপি অনেকটা পর্যবেক্ষনে রয়েছে এখন। আসন পূনঃরুদ্ধারে তারাও কাজ করছেন। তবে বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকদল এলডিপি’র মহা-সচিব এ আসনে মনোনয়ন চান। এ নিয়ে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অনেকটা চিন্তিত বলে জানা যায়। এখাসে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অবস্থান তেমনটি নেই বললেই চলে। তবুও প্রার্থী হওয়ার চিন্তা ভাবনা করছেন জাতীয় পার্টি, জেএসডি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

জানা যায়,
দশটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) সংসদীয় আসন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন জিয়াউল হক জিয়া। স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন তিনি। এসময় ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে রামগঞ্জ। তবে তার আমলে সেভেন স্টার বাহিনী গঠন করে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়। আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের অত্যাচার নির্যাতনে টর্চার সেল গঠন করা হয় এখানে। হামলা, মামলা ও হত্যাকান্ডের মাধ্যমে অনেককে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার বহু অভিযোগ আছে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিয়াউল হক জিয়াকে বাদ দিয়ে নাজিম উদ্দিন আহমেদকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়। এমপি নির্বাচিত হন নাজিম। সরকার গঠন করে আওয়ামীলীগ। ওই সময়ে বিরোধী দলীয় এমপি হিসেবে নিজ দলের গ্রুপিং মেটাতে পারেননি তিনি। ফলে বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে বিএনপি।
এমন প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের অব্যাহত উন্নয়নের প্রভাব পড়ে দেশব্যাপী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মহাজোটের শরিকদল হিসেবে তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব লায়ন এম এ আউয়ালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তার সাথে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে লড়েছেন বিএনপি’র আমলে নির্যাতীত ও জনপ্রিয় নেতা সফিকুল ইসলাম। এসময় তরিকতের অবস্থান তেমনটি না থাকলেও নৌকার উপর ভর করে এমপি নির্বাচিত হন আউয়াল।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন এ আসনটি পূণ:রুদ্ধারের চেষ্টা করছে বিএনপি। দলের একাধিক প্রার্থী বিভিন্নভাবে নিজেদের অবস্থান সৃষ্টিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
তবে এ আসনে জোটের কারণে এলডিপি’র মহা-সচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে নিয়ে চিন্তিত রয়েছে তারা।
এদিকে সম্প্রতি এম এ আউয়ালকে তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে করে আগামীতে শরিক হিসেবে আউয়ালকে নয়, দলের প্রার্থী পাবেন এমন আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেন আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা। দলের একাধিক প্রার্থী দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন এখন। আউয়ালের ব্যার্থতাগুলোকে কাজে লাগাচ্ছেন তারা। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সাঙ্গো পাঙ্গোদের পকেট ভারী করার অভিযোগ কাটাতে পারেননি এমপি আউয়াল। এ সুযোগে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লবিং করছেন আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন প্রার্থীরা।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সফিকুল ইসলাম। আওয়ামীলীগের এ নেতা আউয়ালকে আর ছাড় দিতে রাজি নন। তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষ অবস্থানে থেকে মাঠ গোছাতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। আর সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ে একধাপ এগিয়ে থাকা লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানও তৎপরতা চালাচ্ছেন। জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য ও এফ বি সি সি আই এর সাবেক সহ-সভাপতি প্রবীন রাজনৈতিক নেতা অ্যাডভোকেট দেওয়ান সুলতানও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। এদিকে তরুন সমাজকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সমাজ সেবা সম্পাদক এম এ মমিন পাটওয়ারী এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। আর দান অনুদান দিয়ে জনগণের কাছে পৌঁছে গেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন খাঁন। রাজনৈতিক অবস্থানকে পুঁজি করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সফিক মাহমুদ পিন্টুও মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কাজ করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত নৌকার টিকেট কে পাচ্ছেন তা চুড়ান্ত করেননি দলের সভানেত্রী।

বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ বেশ জনপ্রিয় অবস্থানে রয়েছেন। তাকে ছাড় দিতে নারাজ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনির আহমদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইমাম হোসেন ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী। তারা নিজ নিজ অবস্থানে শক্তিশালী দাবী করে দলীয় মনোনয়ন চান বলে জানা যায়।
তবে এ আসন থেকে জোটের শরিকদল হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন এলডিপি’র সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। তাকে নিয়ে বিএনপি’র এসব প্রার্থী অনেকেটা চিন্তিত রয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মী এবং এলাকার জনগণের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী সেলিম।
এছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. বেলাল হোসনে, জেএসডি’র কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবকে এমপি এম এ গোফরান এবং ইসলামী আন্দোলনের উপজলো সহ-সভাপতি ডা. রফিক উল্যাহও মনোনয়ন চাইবনে বলে জানা গেছে।

আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লায়ন এম এ আউয়াল এমপি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রতিকুলতা মোকাবেলা করে রামগঞ্জকে একটি মডেল উপজেলা করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি। আগামীতেও জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিবে এ প্রত্যাশা আছে। জোটগতভাবে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে আবারো অংশ গ্রহণের ইচ্ছা পোষন করেন আউয়াল।’

সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে দলীয় এমপি না পাওয়ায় ৯৯ শতাংশ কর্মি সমর্থক হতাশায় রয়েছে। সৎ ও যোগ্য প্রিয় একজন প্রার্থী চায় জনগণ। ৯১ সালে সতন্ত্র ভোট করে মাত্র ৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপি’র কাছে পরাজিত হই। ৯৬ সালে আ.লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হলেও তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন নিজের কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছি। জনপ্রিয়তা ধরে রাখার অব্যাহত চেষ্টা আছে।’

মো. শাহজাহান বলেন, ‘ শেখ হাসিনার হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, এগিয়ে যাচ্ছে লক্ষ্মীপুর। রামগঞ্জসহ জেলার সর্বত্র ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। দল থেকে মনোনয়ন পেলে নেত্রীকে এ আসন উপহার দিবো।’

দেওয়ান সুলতান বলেন, এ আসনে আউয়াল নির্বাচিত হওয়ার পর তার নিজের উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে ব্যার্ত হয়েছেন। আগামীতে শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।
আনোয়ার খান বলেন, ‘রামগঞ্জের প্রত্যেকটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের অব্যাহত চেষ্টায় নৌকার পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করছি, শেখ হাসিনার উন্নয়ন বার্তা সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। মানুষ নৌকার পক্ষে রয়েছে।’

এম এ মমিন পাটওয়ারী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করে শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করছি। তরুন সমাজকে নিয়ে রিতিমত নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে
বিএনপি’র সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ জোটগত সিদ্ধান্ত কি সেটি জানাতে না পারলেও নিজের পক্ষে সাফাই গাইলেন। তিনি বললেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে ২৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। আগামীতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট হলে দুই লাখ ভোট পেয়ে বিজয়ী হবো।’

সাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘জোটগত কারণে বিএনপি’র হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত করার প্রতিশ্রুতিসহ নেতাকর্মী ও জনগণকে নিয়ে নির্বাচনের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে।
যদিও জোটগত এমন ধরণের সিদ্দান্ত হয়নি বলে পাল্টা জবাব দিলেন বিএনপি’র সাবেক এমপি নাজিম।

মনির আহমদ বলেন সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করতে কাজ করছি। মনোনয়ন পেতে শতভাগ আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

হারুনুর রশিদ বলেন, স্থানীয় গ্রুপিং মেটাতে সবাই নতুন নেতৃত্ব চান। বিএনপি গন মানুষের দল নির্বাচনে গেলেই বিজয় নিশ্চিত। নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।