অব্যবস্থাপনায় লক্ষ্মীপুর বিসিক মালিকরা লোকসানে বন্ধের পথে বেশকটি প্রতিষ্ঠান

স্টাফ রিপোর্টার:
নানা সমস্যায় জর্জরিত লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্প নগরী। নাজুক যোগাযোগ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বিসিক এলাকায় রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকট। ফলে কারখানা স্থাপনে আগ্রহ হারাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। উৎপাদনে আসা প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে লোকসানে। বন্ধ হওয়ার পথে বেশকটি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য অব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছারিতাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। বিসিকের প্রমোশন অফিসার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সমস্যা সমাধানে যে পরিমাণ বরাদ্ধ দরকার তা তারা পাননি। জানা যায়, ১৯৯৭ সালে লক্ষ্মীপুরে বিসিক শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। শহরের বাঞ্চানগরে ১৬ একর জমির উপর সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৪ সালে সম্পন্ন হয় কাজ। তৈরি হয় তিন ক্যাটাগরির ১০০টি প্লট। এর মধ্যে ৫৮টি প্রকল্পের অনুকূলে ৯৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এখন চালু আছে মাত্র ২৬টি প্রকল্প। বর্তমানে বিসিক শিল্প নগরীতে হাতেগোনা যেকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে সেগুলোও বন্ধ হওয়ার পথে। এতে করে মালিকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে জানান ‘সুলতানা বেকারির’ মালিক আবুল কাশেম। নতুন শিল্প উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলেও জানান উদ্যেক্তা বেলাল আহমদ ও সেলিমসহ অনেকে। বিসিকে পানির ট্যাংকি থাকলেও ১০ বছর ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় এর সুফল মিলছে না। মূল ফটক থেকে শুরু করে বিসিক এলাকার সব রাস্তা চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে পুরো সড়ক যেন ডোবায় রূপ নিয়েছে। এ বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পণ্য আনা-নেওয়ায় বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে শিল্প মালিকদের। তাছাড়া প্রায়ই ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা। একই সঙ্গে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে ঠিকমতো ময়লা নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতে বর্ষাকালে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় যত্রতত্র ব্যবহারে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শ্রমিকরা। বিসিক শিল্প নগরীর দায়িত্বরত প্রমোশন অফিসার ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘চলমান সমস্যা সমাধানে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ চাইলে অনুমোদন দেওয়া হয় মাত্র ১২ লাখ টাকা। যা দিয়ে সংকট নিরসন সম্ভব নয়।